উৎপাদনের চাপ সামলাতে বিশ্ববাজারে ঝুঁকছে চীনা অটোমেকাররা

বিদেশে নিজেদের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে নতুন এক কৌশল অবলম্বন করছে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

নিজস্ব কারখানা তৈরির বদলে তারা বেছে নিচ্ছে বিদেশী কোম্পানির ফেলে রাখা বা অব্যবহৃত কারখানাগুলো। এভাবে ‘অ্যাসেট-লাইট’ বা সম্পদ সাশ্রয়ী কৌশলের মাধ্যমে চীনা কোম্পানিগুলো বিদেশে কম খরচে গাড়ি তৈরির সুযোগ পাচ্ছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে গাড়ির অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতির মুখে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্ববাজার দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। গিলি অটো থেকে শুরু করে গ্রেট ওয়াল মোটরের মতো বড় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এ কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কারখানা স্থাপনের ঝুঁকি ও খরচ না করে বিদ্যমান স্থাপনাগুলো ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপের দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনের কারখানাটি চীনের এসইউভি নির্মাতা গ্রেট ওয়াল মোটরের সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর দুই মাস আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার অদূরে নিসান মোটরসের কারখানা বা উৎপাদন কেন্দ্রটি ব্যবহারের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চেরি অটোমোবাইল। এছাড়া গত নভেম্বরে গিলি অটো ফ্রান্সের রেনো গ্রুপের ব্রাজিলীয় শাখার ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। ফলে কোম্পানিটি ওই কারখানায় গাড়ি সংযোজন ও বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ চীনা গাড়ি নির্মাতাকে বিশ্ববাজারে আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে। রাজনৈতিক ঝুঁকি ও পরিচালনাগত জটিলতা এড়াতে কোম্পানিগুলো সরাসরি নতুন কারখানা তৈরির পরিবর্তে স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পথে হাঁটছে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অটোমোবাইল খাতের বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে চীনা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোর ফেলে আসা সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন এক অর্থনৈতিক মডেল দাঁড় করাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

আরও